সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০৪ অপরাহ্ন
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) অনলাইন ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: দেশের চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) আধুনিকায়ন ও পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অতিরিক্ত রোগীর চাপ, জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট বিবেচনায় নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য এক হাজার ১৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। অনুমোদন পেলে চলতি বছরই কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় ঢামেকের জন্য আধুনিক একাডেমিক ভবন, শিক্ষার্থীদের হোস্টেল, শিক্ষকদের আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজায়ন, সৌরবিদ্যুৎ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার অবকাঠামো আরও উন্নত হবে। এতে দক্ষ চিকিৎসক তৈরির সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। এ কারণে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ দেশের প্রথম ও প্রধান মেডিক্যাল কলেজগুলোর একটি। বর্তমানে ঢামেক ক্যাম্পাসে প্রায় ৬০টি পুরোনো ও নতুন ভবন রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ভবন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২ হাজার ৬০০ শয্যা থাকলেও প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। ফলে বিদ্যমান অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় তিনটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলাবিশিষ্ট একটি আধুনিক একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে। এতে ৩০০ আসনের চারটি লেকচার থিয়েটার এবং দুটি পরীক্ষা কক্ষ থাকবে। এ ছাড়া ৮০০ শিক্ষার্থীর জন্য ১৫ তলাবিশিষ্ট ছাত্র হোস্টেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষকদের আবাসন সংকট নিরসনে নির্মাণ করা হবে ১৫ তলাবিশিষ্ট কোয়ার্টার ভবন।
ক্যাম্পাসে ৮০০ মুসল্লির নামাজ আদায়ের সুবিধার জন্য চারতলা মসজিদ নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ফায়ার হাইড্র্যান্ট ব্যবস্থা, আধুনিক লিফট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সবুজায়নের ব্যবস্থা করা হবে। বিদ্যুৎ ও পানি সাশ্রয়ে সৌরবিদ্যুৎ এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হবে। এ ছাড়া ডা. ফজলে রাব্বি হল ও এর আশপাশের অভ্যন্তরীণ সড়কের উন্নয়ন করা হবে।
বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে প্রায় ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী এমবিবিএস ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। পুরোনো হোস্টেলগুলোর কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটও প্রকট হয়েছে। ডা. ফজলে রাব্বি হলের একাংশ ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে নতুন হোস্টেল নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি রোগীরাও আধুনিক চিকিৎসাসেবার সুযোগ পাবেন।